কম্পিউটার কেনার পর করণীয়

0
2063

১. অপারেটিং সিস্টেম হালনাগাদ
কম্পিউটার কেনার প্রথম কাজ হল অপারেটিং সিস্টেম আপডেট বা হালনাগাদ রাখা। ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত না পুরোপুরি নিজের কম্পিউটারটি সর্বশেষ হালনাগাদে উন্নীত করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি একরকম অনিরাপদই থাকবেন। এতে হয়তো সময় লাগতে পারে কিন্তু ধৈর্য ধরে কাজটা শেষ করলে এর সুফল অনলাইন, অফলাইন—দুই ধরনের পরিবেশেই পাবেন। আপনি যদি উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম ব্যাবহারকারি হন সেক্ষেত্রে Settings>Update and security>Check for Updates আর উইন্ডোজ ৭ বা ৮ অপারেটিং সিস্টেমের ক্ষেত্রে উইন্ডোজের কন্ট্রোল প্যানেল খুলে System and Security>Windows Update>Check for Updates ক্লিক করুন। এভাবে উইন্ডোজ সিস্টেম তার প্রয়োজনীয় হালনাগাদ খুঁজে নেবে, ইনস্টল করবে, নিজে থেকে কম্পিউটার বন্ধ বা রিস্টার্ট নেবে এবং এ ধাপগুলো অনেকবার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
২. পছন্দের ব্রাউজার ইনস্টল
অনলাইন অভিজ্ঞতা সর্বদা ভাল রাখতে নিজের প্রিয় ওয়েবসাইট দেখার সফটওয়্যার বা ব্রাউজার ইনস্টল করা ছাড়া বিকল্প নেই। উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমের নতুন এজ ব্রাউজারটি যদিও খুব শক্তিশালী এবং দ্রুতগতিসম্পন্ন, ভালো না লাগলে জনপ্রিয় গুগল ক্রোম, ফায়ারফক্স বা অপেরা ব্রাউজার ইনস্টল করে নিন। এসব ব্রাউজারে অতিরিক্ত অনেক সুবিধা এবং ছোট ছোট প্রোগ্রাম, এক্সটেনশন বা অ্যাড-অন ব্যবহার করা যায়।
৩. উইন্ডোজের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা
উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমে এখন আগে থেকেই উইন্ডোজ ডিফেন্ডার নামে বেশ কাজের এক নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত রয়েছে। উইন্ডোজ ৭ অপারেটিং সিস্টেমে অবশ্য সেটা মাইক্রোসফট সিকিউরিটি এসেনশিয়ালস নামে আছে, যা ইন্টারনেট থেকে আগে নামিয়ে ইনস্টল করে নিতে হবে। উভয় সফটওয়্যারেই ভাইরাস ডেটাবেইস সর্বশেষ হালনাগাদ করে নিতে হবে। যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়ায় সাধারণ ব্যবহারের জন্য তৃতীয় পক্ষের অ্যান্টিভাইরাস বা ইন্টারনেট সিকিউরিটি সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। তবে তারপরও প্রয়োজন পড়লে অন্য বিভিন্ন এন্টিভাইরাস যেমন Avast!, AVG Antivirus, ESET, BitDefender ইত্যাদি আপনার পছন্দ, প্রয়োজন বা দাম অনুসারে কিনে নিতে পারেন।
৪. অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আনইনস্টল করা
নতুন কম্পিউটারের সঙ্গে প্রায়ই এমন অনেক সফটওয়্যার জুড়ে দেওয়া থাকে, যেগুলো নিজের কাজের জন্য একেবারেই প্রয়োজন নেই। এর মধ্যে বেশ কিছু সফটওয়্যার থাকে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বা বেশ অনেক আগের সংস্করণের, যার তেমন কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। এসব সফটওয়্যার বেছে বেছে কন্ট্রোল প্যানেল থেকে আনইনস্টল করে দিন।
৪. ড্রাইভার সফটওয়্যার আপডেট
নতুন কম্পিউটার হলে বা কম্পিউটারে নতুন করে কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল এবং নতুন যন্ত্রাংশ যুক্ত করলে এর চালক সফটওয়্যার বা ড্রাইভার ফাইলগুলো ইনস্টল করে নিতে হয়। আর এসব ড্রাইভার ফাইলের সর্বশেষ হালনাগাদ নামিয়ে বা ইনস্টল করে নিলে সেগুলোর কার্যকারিতা অনেক বেড়ে যায়, পাওয়া যায় বাড়তি সুবিধা। উইন্ডোজ ৭, ৮ বা ১০ অপারেটিং সিস্টেমে কি-বোর্ডের উইন্ডোজ কি চেপে লিখুন Device Manager এবং Enter বোতাম চাপুন। এবার তালিকায় থাকা কোনো যন্ত্রাংশের নামের পাশে হলুদ আশ্চর্যবোধক চিহ্ন থাকলে সেটিতে ডান ক্লিক করে Update Driver Software… অপশনে ক্লিক করে ইন্টারনেটে স্বয়ংস্ক্রিয়ভাবে হালনাগাদ করে নিন অথবা ইন্টারনেট থেকে নামিয়ে নিজে থেকে ইনস্টল করে নিন। এ ছাড়া নিজস্ব টাইমজোন বা সময় ও তারিখ ঠিক করে নিতে হবে। ডেস্কটপে সাধারণ আইকনগুলো না থাকলে কিবোর্ডের উইন্ডোজ কি চেপে common icons লিখে এন্টার চেপে সেগুলো ফিরিয়ে আনা যাবে।