পরিচয় মিলেছে ভেসে আসা রহস্যময় প্রাণীটির!

0
1267

ইন্দোনেশিয়ার হুলুং সমুদ্রসৈকতের তীরে হঠাৎ করেই ভেসে এসেছিল বিশাল আকারের এই রহস্যময় প্রাণী। ছবিটি টুইটার থেকে নেওয়া।ইন্দোনেশিয়ার হুলুং সমুদ্রসৈকতের তীরে হঠাৎ করেই ভেসে আসা বিশাল আকারের রহস্যময় প্রাণীটির পরিচয় নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলছেন, এটি একটি বেলিন তিমি।

১০ মে রহস্যময় প্রাণীটিকে তীরে দেখে চমকে ওঠে স্থানীয় লোকজন। স্থানীয়দের ভাষ্য, হঠাৎ বিরাট পাথরের মতো কিছু একটা পানির ওপর দিয়ে মাথা তোলে। যে জায়গায় প্রাণীটিকে দেখা গিয়েছিল, সেখানকার পানি টকটকে লাল ছিল। স্থানীয়রা ঘটনাটির ভিডিও করে পোস্ট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আর এতেই ভাইরাল হয় ভিডিওটি।

স্থানীয় আসরুল তুয়ানাকোটা নামের এক বাসিন্দা জানিয়েছিলেন, এটি তাঁর নজরেই প্রথম আসে। তিনি ডেকে অন্যদের দেখান। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রাণীটি মারা যায়।

বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিলেন, প্রাণীটি বিশালাকার একটি স্কুইড। কোনো কারণে স্কুইডটির শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। আর এ কারণে লাল হয়ে গিয়েছিল সমুদ্রের ওই অংশের পানি।

তবে বিষয়টি তদন্ত করতে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। দলে থাকা ওশান কনজারভেনসির প্রধান বিজ্ঞানী জর্জ লিওনার্দো হাফিংটন পোস্টকে বলেন, এটি আসলে একটি বেলিন তিমি। প্রাণীটি ৫০ ফুট লম্বা এবং ৩৫ টন ওজনের। কোনো কারণে গুরুতর জখম হয়েছিল, আর সেখান থেকেই রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। এই রক্তে লাল হয়ে যায় সমুদ্রের পানি।

গবেষকেরা বলেন, বেলিন তিমির ১৫টি প্রজাতি রয়েছে। অন্য তিমিদের তুলনায় অনেকটা দ্রুতগতিতে, ঘণ্টায় প্রায় ৩৭ কিলোমিটার বেগে সাঁতার কাটতে পারে এরা। শিকার ও সামুদ্রিক দূষণের কারণে বর্তমানে বিপন্ন তিমির এই প্রজাতি।

তদন্ত করতে যাওয়া দলটির ভাষ্য, তিমি মারা গেলে সাধারণত সমুদ্রের নিচে চলে যায়। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার সৈকতে ভেসে আসা বেলিন তিমিটির শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়েছিল। পচন ধরে গ্যাস জমা হয়ে ফুলে গিয়েছিল প্রাণীটি। ফলে ভেসে ওঠে সমুদ্রের পানিতে।